লিনাক্স, একটি জঘন্য অপারেটিং সিস্টেম

লিনাক্স, একটি জঘন্য অপারেটিং সিস্টেম

আজকাল কি এক হয়েছে যে সে দেখি কম্পিউটারে লিনাক্স লাগায়। যেন একটা ফ্যাশান হয়ে গেছে। বলে নাকি উইন্ডোেজ, যেটাকে রা ব্যঙ্গ করে জানালা, বাতায়নী ইত্যাদি বলে ডেকে থাকে, তার চেযে লিনাক্স অনেক গুণে ভাল। তো তাদের এইসব কথা শুনে মেতে গিয়ে আমিও লিনাক্স লাগালাম। তো লিনাক্স মানে ডেস্কটপে মূলত উবুন্টুকেই বোঝাচ্ছি যেহেতু এটাই বেশি ব্যবহার হয়। তাছাড়া মিন্ট কেও হালকা ভাবে টাচ করে যাব। তো এবার চলুন দেখে নিই বহুল প্রচারিত লিনাক্সের আসল চেহাড়া।

১)জটিল ইন্সটলেশন পদ্ধতি:-
ধরুন আপনি উইন্ডোজ ইন্সটল করবেন, তো প্রথমে আপনার দরকার একখানা সিডি। এটা হয় চড়া দামে বাজার থেকে কিনতে হবে, নয়ত ক্র্যাক বা ‘চোরাই’ মাল আনতে হবে। এবার এটাকে সিডি ড্রাইভে ঢুকিয়ে বুট করুন। এবার কয়েকটা স্টেপ ফলো করুন। এরপর পারটিশন করুন। এবহার মিনিট চল্লিশ অপেক্ষা করুন। ইন্সটল হবে। এরপর একে একে ড্রাইভার আর অন্য দু চারটে সফটওয়্যার ইন্সটল করলেই আপনার পিসি রেডি। মাত্র ঘন্টা দুয়েকের ব্যাপার।
অন্যদিকে লিনাক্সে দেখুন। প্রথমে একেবারে বিনামূল্যে আইএসও ফাইল নামাও। তারপরে সেটাকে সিডিতে বার্ন করো। বা অতি অল্প ডোনেশন দিয়ে রেডি সিডি আানাও। এবার সেটাকে ইনসার্ট করো। লাইভ চালিয়ে দেখে নাও সব ঠিক আছে কিনা। এরপর ইন্সটল আইকনে ক্লিক করো। এবার খুব সহজে দুখানা পার্টিশন বানাও। কনফার্ম করো। ইন্সটল শুরু হবে। এরপর ইন্সটল শেষে রিস্টার্ট নেবে। ব্যস পিসি রেডি! কোন অতিরিক্ত ড্রাইভার ইত্যাদি ছাড়াই দীর্ঘ্য পনেরো মিনিট অপেক্ষা করে তবে ইন্সটল হয়! কি জঘন্য বলুন তো? ড্রাইভার ছাড়াই ওএস? ইয়ার্কি নাকি? এটা কি ড্রাইভারের অপমান নয়?

২)স্পীড:-
উইন্ডোজে কত কাজ করতে হয়। নিয়মিত ডিফ্র্যাগমেন্ট, অপ্রয়োজনিয় ফাইল দূরীকরন, ইত্যাদি কত কি! এসব না করলে মেশিন দু সপ্তাহের মধ্যেই স্লো হয়ে পরবে। করলে মাস খানেক ঠিক থাকবে। তখন আাবার আগের স্পীড পেতে দাও রিইন্সটল! ওহ্! কতই না গুরুগম্ভীর ব্লগ লেখা হয় উইন্ডোজের সপীড বাড়ানো নিয়ে! আর সেখানে লিনাক্স কিনা একবছর পরেও ঘোড়ার মত দৌড়ায়! আর এতে ফাইল সিস্টে-ম এত গোছানো যে ডিফ্র্যাগমেন্টের অপশনই নেই! এটা একটা কথা হল?

৩)সফটওয়্যার ইন্সটল:-
ধরুন উইন্ডোজে একখানা নতুন সফ্টওয়্যার ইন্সটল করবেন। প্রথমে গুগল ঘেঁটে সফটওয়্যার বাছুন। তারপর সেটা নামান বা ড়অ দামে সিডি কিনুন। এরপর ইএক্সই ফাইলে ক্লিক করে একগাদাদ নেক্সট নেক্সট চাপুন। তারপর প্রোডাক্ট কি মারুন। ব্যস আপনার সফ্টওয়্যার রেডি। অন্যদিকে উবুন্টুতে দেখুন। সতটওয়্যার সেন্টার না কি বলে একখানা মেনু আছে যেটা চালালেই হাজার হাজার সফটওয়্যার সুন্দর করে ক্যাটেগরি অনুযায়ি সাজানো অবস্থায় চলে আসে! সার্চ করে বা লিস্ট দেখে পছন্দের সফ্টওয়্যারে ক্লিকন করে ইন্সট৬ল বাটন চাপলেই আপনা থেকেই সফটওয়্যার ইন্সটল হয়ে যায়! বলি একি ছেলেখেলা নাকি হ্যাঁ?

৪)ভাইরাস:-
কম্পিউটারের অন্যতম একটা সমস্যা হল ভাইরাস। এমনি সব ঠিক আছে, হঠাৎ একদি৯ন দেখলেন আপনার দরকারী ফাইলগুলো হাওয়া! এর জন্য দামি অ্যান্টিভাইরাস ইউজ করতে হয়। সেটাকে সময়ে সময়ে আপদেট করলেই হল। তাও যখন ডাটা কস বা অন্য কিছু হয় তখন যে কি অভিজ্ঞতা হয়, সেটা যার হয়েছে সেই জানে। এবনার লিনাক্সের দিকে দেখুন। এতে ভাইরাস ই হয়না! বোঝো কান্ড! আর এই কারনেই এতে কোন অ্যান্টি ভাইরাসও লাগেনা! কি বিশ্রী ব্যাপার ভাবুন!

৫)ডেস্কটপ এনভায়রোমেন্ট:-
উইন্ডোজে আপনি সুন্দর এফেক্টওয়ালা একটা ডেস্কটপ পাবেন। এতেও যদি মন না ওঠে তখন বাজারে হাজারো থিম এর মধ্য থে-কে ইচ্ছামত থিম বাছুন। আরো কত এফেক্ট আসবে। সেখানে লিনাক্সে দেখুন। উবুন্টুর ডিফল্ট ডেস্কটপ ইউনিটি তো রয়েইছে, সাথে- জিনোম, কেডিই, এক্সএফই, ইত্যাদি আরো কতরকম এনভঅয়রোমেন্ট! এদের প্রত্যেকের কাজও আালাদা। আাবার দেখুন, এতে একাধিক ওয়ার্কস্পেস আছে। মানে ওই ব্রাউজারের আালাদা উইন্ডোর মত আালাদা আালাদা ভাগে আালাদা আলাদা অ্যাপ চালানো যায়! এসব কি হচ্ছে হ্যাঁ?

৬)প্রোগ্রাম খোজা :-
উইন্ডোজে দরকারি প্রোগ্রাম খুজে চালানো কত সোজা। প্রথমে স্টার্ট মেনুতে ক্লিক করো। এরবর বিশাল লিস্ট থেকে খুঁজে বের করে ক্লিক করলেই হল। কিনবা নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ দাও। যেমন এমএস ওয়ার্ডের জন্য winword, ভিসুয়্যাল স্টুডিওর জন্য devenv এইরকম সহজেই বোঝা যায় এমন কিছু কিওয়ার্দ। এইবার উবুন্টুতে দেখুন। এতে ক্যাটেগরি অনুযায়ি সব অ্যাপস সুন্দর করে সাজানো থাকে। তাও খুঁজে না পেলে কাছাকাছি কিছু নাম, এমনকি কাজ ধরে সার্চ দিলেও আরো কয়েকটা রেজাল্টের সাথে কাঙ্খিত জিনিসটা চলে আসে। এ কি গুগল নহাকি যে যাই লিখি আন্দাজে বুঝে নিয়ে ঠিক খুঁজে বার করে দেবে? মগের মুলুক নাকি?

এইভাবে লিনাক্সের খারাপ দিকের কথা বলে শেষ করা যাবেনা। এই জঘন্য ওএস কেউ ইউজ করে? কি জটিল জিনিস! যা তা সব। তাই লিনাক্স দেখলেই তেড়ে যেতে ইচ্ছা করে। কেউ কোনদিন লিনাক্স ইউজ করবেননা।

জানুয়ারী ২৭th, ২০১৭ by