মাতৃভাষা দিবসে আরব মানসিক দাসত্ব

মোদের গরব মোদের আশা,
আরবি মেশানো বাংলা ভাষা….

২১শে ফেব্রুয়ারি,… আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস আজ। নিঃসন্দেহে একজন বাংলাভাষী মানুষ হিসেবে অন্যান্য বাঙ্গালীদের মত, আমার কাছেও অত্যন্ত গর্বের দিন এটি।

মানুষ, আর কতকিছুর জন্যই তো বলিদান দিতে এগিয়ে আসেন, কিন্তু ভাষার দাবীতে রক্ত ঝরানো?… প্রান দেওয়া,… এগুলি ভাবলেও শরীরে রোমাঞ্চ জাগে। বিস্ময়ে হতে হয় বাকরুদ্ধ।

  • কিন্তু একবার ভাবুন তো, – ১৯৫২’র ২১শে ফেব্রুয়ারি, যে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সেদিন এতজন তাদের তাজা রক্ত ঝরিয়েছিলেন,… দিয়েছিলেন প্রান বলিদান, তা কি আজকের এই সাম্প্রদায়িক ও রক্তাক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সার্থে…??

আরব সাম্রাজ্যবাদের ঊষর রেগিস্থানের নিরস-নিস্প্রান মরু-বালিরাশি আজ ঠিক যে ভাবে ওপারে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনকে ঢেকে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে, ঠিক তেমনি এপারেও তা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টির মুখ্য উদ্দেশ্যটিকেই ধ্বংস করতে সমুদ্যত হয়েছে।

এই ধরুন … আমার আপনার … বা অধিকাংশ বাঙ্গালী হিন্দুর কচি কাঁচারা .. দুলে দুলে আধো আধো কণ্ঠস্বরে যেখানে তাদের শৈশবের পাঠ মুখস্থ করে … এই বলে যে –

‘অ’য়ে অজগর আসছে তেড়ে,
‘আ’মটি আমি খাবো পেড়ে।
‘ইঁ’দুর ছানা ভয়ে মরে,
‘ঈ’গল পাখি পাছে ধরে।
‘উ’ট চলেছে মুখটি তুলে,
‘ঊ’টি আছে ঝুলে।
‘ঋ’ষী মশাই বসেন পূজায়,
“৯” লিকার যেন ডিকবাজি খায়।
‘এ’ক্কা গাড়ী খুব ছুটেছে,
‘ঐ’ দেখ ভাই চাঁদ উঠেছে।
‘ও’ল খেয়োনা ধরবে গলা,
‘ঔ’ষুধ খেতে মিছে বলা।

হ্যাঁ ওরাও পড়ে … সারি হয়ে বসে দুলে দুলে … সমস্বরে কচি কচি গলায় মিষ্টি সুরে ….
…. কিন্তু কি পড়ে শুনবেন?

‘অ’ = অজু করে নামায পড়,
মুসলমানী জীবন গড়।
বা,
“অ” – তে,
অজু করে নামাজ পড়, আল্লাহর নামে জিকির কর।
হতে হবে খাঁটি মুসলমান, সবই যে তারই দান।
‘আ’ = আজান দিলেন মুয়াজ্জিন,
মসজিদে যায় সব মুমিন।
বা,
“আ” – তে,
আল্লাহর পরে হযরত মুহাম্মদ (সৎ আদর্শ তিনি মোদের)।
আব্বা-আম্মা তাঁহার পরে, আদেশ মানব তাদের।
‘ই’ = ইসলামের পাঁচটি বেনা,
জরুরী তাই সব জানা।
‘ঈ’ = ঈদের দিনে মুসলমান, দীন
দুখীরে করে দান।
বা,
“ঈ” – তে,
ঈদের দিনে খুশি দেখো, ঈমানদার সব ভাই,
ঈর্ষা সবে দূর করিয়া, ঈদ গাহতে যাই।
‘উ’ = উঠ জেগে নিদ্রা হতে, পড় নামায
জামাত সাথে।
‘ঊ’ = ঊষাকালে কুরআন পড়ি, আল্লাহর
বাণী কষে ধরি।
‘ঋ’ = ঋণ করলে দুঃখ হবে, পথে –
ঘাটে লজ্জা পাবে।
‘এ’ = এক আল্লাহ্ যে মানবে,
দোজাহানে মুক্তি পাবে।
“এ” – তে,
এক আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা, এলমেদ্বীন কুরআন।
একতাই সুখের মূল, এক হও মুসলমান।

‘ঐ’ = ঐতো দেখি আল্লাহর ঘর,
ডাকছে মোদের জীবন ভর।
‘ও’ = ওজনে কম দিলে ভাই,
কেয়ামতে মুক্তি নাই।
‘ঔ’ = ঔষধ সেযে এলাজ করে,
মাঙলে দোয়া সম্মান বাড়ে।

বা,

“ক” – তে,
কালেমা পড়ে মুসলমান হব, কাফের নাহি থাকব
কুরআনের বিধান মান্য করে, কামেল মুমিন হব।
“খ” – তে,
খাবার খাব বিসমিল্লাহ পড়ে, খাদক নাহি হব
খালি মাথায় ভাত খাব না, খোঁজ গরীবের লব
“ঘ” – তে,
ঘৃনা থেকে বাঁচতে সুজন, ঘুষ নাহি খায়।
ঘোমটা মাথায় সতী নারী, ঘরের বাহিরে যায়।
“জ” – তে,
জুমআর নামাজ গরীবের হজ্জ, জামাতে নামাজ পড়ব।
জুলুম করা ছেড়ে দিয়ে, জিকির আল্লাহর করব।

“ঞ” – তে,
ঞ দেখো কষ্টে আছে, পিঠে বোঝা লইয়া।
ঞ এইবার হইল সুখী, মিঞা সাহেব হইয়া।
“ট” – তে,
টুপি পড়া নবীর সুন্নৎ, টাকার বড়াই হারাম।
টাকনুর উপর কাপড় পড়ে, টংগী ওয়াজ শুনতাম।

….. কি কেমন লাগল?

ভালো লাগলে তো খুবই ভালো। … আর তা যদি নাও লাগে, তবুও বলি, প্রস্তুত হন। চারিদিকে তেহট্ট, নবী দিবস আর ধূলাগড়ের ধূলার ধোঁয়ার ভিতর দিয়ে চলতে চলতে,…..
– কে বলতে পারে, যে অদূর ভবিষ্যতে আপনার ভাবি প্রজন্মও এমনি ভাবে দুলে দুলে এসব পড়বে না….?
আপনারই ঘর থেকে একদিন, কচি সুরে … ভেসে আসবে না…?

……“‘অ’ তে অজু করে নামায পড়ে…..”

ফেব্রুয়ারী ২৫th, ২০১৭ by